অরাজ এবং লিঙ্গ প্রসঙ্গ-এমা গোল্ডম্যান
(অনুবাদকের ভূমিকাঃ এমা
গোল্ডম্যান একজন অরাজবাদী রাশিয়ান লেখক। বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী, নারীবাদী হিসেবে
তাঁর পরিচিতি ছিল। অরাজপন্থী রাজনৈতিক ধারণার প্রচারে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন
করেন। ‘মাদার আর্থ’ নামে একটি অরাজপন্থী পত্রিকাও তিনি সম্পাদনা করেন। এমা
গোল্ডম্যানের নারীবাদ সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট
ছিল। তাই তাঁর নারীবাদের উপাদানগুলো হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। ‘বিয়ে’, ‘বিয়ে ও
প্রেম’, ‘মানব শিশু ও তাঁর শত্রুরা’ এরকম লিখা যেমন একদিকে লিখেছেন অন্যদিকে
অরাজবাদী রাজনীতির মূল নিয়ে লিখেছেন। লিখেছেন ব্যক্তি,সমাজ,রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে।
‘অরাজ ও লিঙ্গ প্রসঙ্গ’ এই
লিখাটিতে অনুবাদক সেক্স এর অনুবাদ করেছেন লিঙ্গ। সেক্সুয়াল এক্ট বা যৌন মিলনের
চেয়ে এখানে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে লিঙ্গ সংক্রান্ত কিছু বিষয়। ‘জেন্ডার / সেক্স’
বিতর্কে এই তর্জমায় যাওয়া হয় নি। দ্বিতীয় যে শাব্দিক অনুবাদের কথা বলতে হয় সেটি
হলো, ‘union’.
ঐক্য/সংঘ এই ধরনের অনুবাদ মূল লিখার প্রসঙ্গ অনুযায়ীই রাখা হয় নি। এমা
গোল্ডম্যানের এই আলাপটি একদিকে যেমন বিবাহকে প্রশ্ন করে অন্যদিকে প্রশ্ন করে
ব্যবস্থাকে। উনিশ শতকের বিভিন্ন সংস্কারক যখন দেহবৃত্তি(prostitution) কে নীতিবাদী
জায়গা থেকে অবদমিত করছিলেন সে সময়ে এমা গোল্ডম্যান দেহবৃত্তির অবদমনের বদলে প্রশ্ন
করেন ব্যবস্থাকে। এই ব্যবস্থাকে প্রশ্ন না করলে যে দেহবৃত্তি সমাজের জন্য অসম্মানজনক
পেশা হিসেবে রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লিখাতে তাই তিনি চরম ব্যঙ্গের সুরে
সমালোচনা করেছেন সে সকল সংস্কারকদের যারা নীতিবাদী আর মানববাদী বলে পরিচিত অথচ
তাদের কর্মকাণ্ড খোদ নীতি আর মানবতার বিরুদ্ধে)
![]() |
| ছবিঃ ইন্টারনেট |
কর্মজীবীদের,যাদের
শক্তি ও পেশী ধনীদের ম্লান ও পুঁচকে সন্তানদের দ্বারা সমাদৃত হয়, অথচ তবুও তাদের
শ্রম কিঞ্চিতই তাদের ক্ষুধার কষ্টকে দরজা থেকে দূরে রাখতে পারে। যারা বিয়ে করে শুধুই একজন
স্ত্রী ও গৃহিনী পাওয়ার জন্য, যাকে(স্ত্রী) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যেতে
হয়, যাকে সকল প্রকার প্রচেষ্টা চালাতে হয় খরচ কমানোর জন্য। তার স্নায়ু ক্লান্ত হয়ে
পড়ে তার স্বামীর স্বল্প বেতনে উভয়কে পোষণের ক্রমাগত প্রচেষ্টা করতে করতে , যা তাকে
খিটখিটে করে তোলে। এবং সে আর তার প্রভু এবং মালিকের প্রতি তার অনুরাগ গোপন
করতে পারে না। হায়! শীঘ্রই সে এই উপসংহারে আসে যে , তার আশা
আর পরিকল্পনা সব গুড়ে বালি , এবং কার্যত ভাবতে থাকে যে তার বিয়েটি ব্যর্থ।
শেকলটি ভারী থেকে ভারী হতে থাকে
খরচ কমার
বদলে যখন বাড়তে থাকে , বিয়ের সময় নিজের মধ্যে বিদ্যমান স্বল্প শক্তিটি স্ত্রীরা
সম্পূর্ণরূপে হারাতে থাকে, সে নিজেকে প্রতারিত মনে করতে থাকে। এবং এই চিরধ্রুব ধৈর্যহীন
এবং ভয়ংকর ক্ষুধার জ্বালা তার সৌন্দর্যকে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই ম্লান করে তোলে।
সে হতাশ হয়ে পড়ে, নিজের ঘরের কাজকর্ম অবহেলা করতে থাকে। যেহেতু তার আর তার স্বামীর
মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতির কোনো বন্ধন নেই যেটি তাদেরকে জীবনের এই দুর্দশা
,দারিদ্র্যকে মোকাবেলা করার শক্তি দিবে, নিজেরা পরস্পর সংলগ্নে থাকার পরিবর্তে
তারা নিজেদের মধ্যে আরো বেশি করে পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া শুরু করে , নিজেদের
ভুলগুলোতে আরো বেশি অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে।
কোটিপতির
মতো স্বামীটি ক্লাবে যেতে পারে না, কিন্তু সে সেলুনে গিয়ে এক গ্লাস বিয়ার বা
হুইস্কিতে মত্ত হয়ে নিজের দুর্দশা ভুলার চেষ্টা করে। তার এই দুর্দশার দুর্ভাগা
সঙ্গীটি , যে নিজের প্রেমিকের বাহুডোরে বিস্মৃত হতে চাওয়ার মতো সৎ , এবং যে এতই
গরীব যে নিজেকে কোনো ন্যায্য চিত্তবিনোদনে কিংবা পরিতৃপ্তির জন্য অনুমতি দিতে পারে
না, তাকে থাকতে হয় দারিদ্র্যপীড়নের মধ্যে, ঘরের এই অর্ধবন্দী পরিবেশে সে মাঝেমাঝে বিলাপ করতে করতে
ভেঙে পড়ে নিজের মূর্খতার জন্য যা তাকে এক গরীব মানুষের স্ত্রী বানিয়েছে।
কিন্তু
এরপরও তাদের নিজেদের থেকে আলাদা হওয়ার কোনো উপায় থাকে না।
কিন্তু তাদের তা পরিধান করতেই হবে
যাই হোক,
তাদের গলায় বাধা আইন আর চার্চের এই পীড়াদায়ক
শেকল ততক্ষণ পর্যন্ত ভাঙতে পারবে না যতক্ষণ দুই ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে তা ছিন্ন
করার অনুমতি প্রদান করবে।
আইনের কি
যথেষ্ট দয়াশীল হওয়া উচিত নয় এক্ষত্রে যা তাদের স্বাধীনতা দেবে, তাদের ব্যক্তিগত
জীবনের প্রত্যেকটা বিবরণকে আলোয় টেনে আনবে।
নারীটিকে জনগণের অভিমতে নিন্দিত হতে হবে এবং তার পুরো জীবনটাই নষ্ট হয়ে
যাবে। এই মর্যাদাহানির ভয় তার বিবাহিত জীবনের চাপে ভেঙে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এই
প্রতিকূল ব্যবস্থা যা তার এবং তার আরো অনেক বোনের জীবনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে ,তার বিরুদ্ধে সে একটাও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস পায়
না।
ধনীরা
কেলেঙ্কারি এড়াতে এটা সহ্য করে- আর গরীবরা নিজের সন্তানের খাতিরে আর জনগণের
অভিমতের ভয়ে। তাদের জীবন হয়ে ওঠে ভণ্ডামি
আর শঠতার দীর্ঘ এক ধারাবাহিকতা।
যে নারী
নিজের আনুকূল্য বিক্রি করে, স্বাধীনতা
প্রাপ্তিতে সে সেই পুরুষকে ত্যাগ করতে পারে যে তাকে ক্রয় করেছে। কিন্তু
‘সম্ভ্রান্ত্র স্ত্রী’ রা আসলে নিজেকে পীড়াদায়ক এই মিলন থেকে কখনো মুক্ত করতে পারে
না।
সকল
অপ্রাকৃত মিলন যা প্রেম দ্বারা পবিত্র নয়
তা হলো দেহবৃত্তি, সেটা চার্চ বা সমাজ দ্বারা অনুমোদিত হোক আর না হোক। এই সকল মিলন
সমাজের নৈতিকতা আর স্বাস্থ্য এ দুইকেই অধঃপতনের দিকে প্রভাবিত করে।
ব্যবস্থাকে দোষারূপ
যে
ব্যবস্থা নারীকে সর্বোচ্চ নিলামকারীর কাছে তার নারীত্ব এবং স্বাধীনতা বিক্রি করতে
বাধ্য করে সে ব্যবস্থা আদতে সেই কুব্যবস্থার শাখা যা গুটিকয়েক মানুষকে তার সহকর্মীদের উৎপাদিত সম্পদে বেঁচে থাকার
অধিকার দেয়, যার ৯৯ শতাংশ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কলুর বলদের মতো খাটে যা সবেমাত্র
কোনোরূপে তার আত্মা আর শরীরকে একত্রিত রাখে। অথচ তার শ্রমের ফল ভোগ করে কিছু অলস
রক্তচোষা যারা এমন বিলাসিতায় ঘেরা থাকে যা অর্থ দিয়ে কেনা যায়।
কিছুক্ষণের
জন্য এই উনিশ শতকের সামাজিক ব্যবস্থার দুটি চিত্র দেখা যাক।
সম্পদশালীদের
গৃহস্থালির দিকে একবার তাকানো যাক, ঐ বিস্তীর্ণ প্রাসাদগুলো যেগুলোর দামী আসবাব
হাজারো অসহায় নারীপুরুষের আরামপ্রদ পরিস্থিতির যোগান দিতে পারবে। এই সম্পদশালীদের
সন্তানদের ডিনার পার্টিগুলোর দিকে তাকানো যাক, যেগুলোর একবেলা আয়োজন শত
ক্ষুধার্তের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবে। যাদের কাছে পানিতে ধৃত রুটির আহার
বিলাসিতা। এইসকল ফ্যাশন পূজারীদের তাদের
নিত্যদিনের স্বার্থপর ভোগের নতুন নতুন নিমিত্তের দিকে তাকানো যাক- ফুর্তি আর
আনন্দের খোঁজে মত্ত হয়ে থিয়েটার, বলড্যান্স, কন্সার্ট, পোতচালনা, পৃথিবীর এক
প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো। এরপর এক মুহুর্তের জন্য ঘোরা যাক এবং
তাকানো যাক তাদের দিকে যারা তাদের এই অত্যধিক , অপ্রাকৃত আনন্দের জন্য সম্পদ
উৎপাদন করে ।
অন্য চিত্র
তাদের
দিকে তাকানো যাক যারা অন্ধকারে, স্যাঁতস্যাঁতে সেলারে যুথভূত হয়ে আছে একসাথে,
যেখানে তারা কখনো পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নিতে পারে না, ময়লা কাপড় পরিধান করে, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত দুর্দশার ভার বয়ে
বেড়ায়, তাদের সন্তানরা রাস্তায় রাস্তায় দৌড়ে বেড়ায় উলঙ্গ, ক্ষুধার্ত অবস্থায়,
তাদেরকে ভালোবাসার বুলি বলার জন্য, কোমলতায় যত্ন করার মতো কেউ থাকে না, তারা বেড়ে
ওঠে অজ্ঞতা আর কুসংস্কার নিয়ে, তাদের জীবনকে অভিসম্পাত করতে করতে।
এই দুই
চমৎকার বৈপরীত্যে তাকানো যাক, আপনারা নীতিবাদী
আর মানববাদি ব্যক্তি, আমাকে বলুন কাকে দোষারূপ করা উচিত! তাদের, যারা
দেহবৃত্তিতে জড়িয়েছে , বৈধভাবে বা অন্যভাবে , নাকি তাদের যারা তাদের শিকারদের এই
নীতিভ্রষ্টতার দিকে পরিচালিত করেছে?
কারণটি
দেহবৃত্তিতে নিহিত নয় , সমাজের নিজের মধ্যে নিহিত। নিহিত রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পদের , রাষ্ট্রের,
চার্চের অসাম্যের ব্যবস্থায়। নিহিত রয়েছে নিরপরাধ নারী আর অসহায় বাচ্চাদের
আইনসম্মত চুরি, খুন, হিংস্রতার ব্যবস্থার মধ্যে।
এই দুষ্টের আরোগ্য
যতক্ষণ
না এই দানবের ধ্বংস হচ্ছে ততক্ষণ আমরা এই ব্যধি হতে মুক্তি পাব না যেটা সিনেটে ,
প্রত্যেকটা পাবলিক অফিসে বিদ্যমান আছে; যেটা ধনীদের ঘরে আছে, এমনকি গরীবের
দুর্দশার ছাউনিতেও আছে। মানবজাতির অবশ্যই তাদের শক্তি এবং সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন
হতে হবে, তাদের অবশ্যই একটি নতুন জীবন শুরু করার জন্য মুক্ত থাকতে হবে, যে জীবন
হবে উত্তম আর উদার।
দেহবৃত্তি
কখনো ড. পার্কহার্স্ট এবং অন্যান্য সংস্কারকদের প্রবর্তিত উপায়ের মতো দমননীতির
শিকার হবে না।১ এটি ততদিন
পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে যতদিন তার বংশবৃদ্ধি করার ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকবে।
যখন এই
সকল সংস্কারকরা নিজেদের প্রচেষ্টাগুলোকে একত্রিত করছিল সেই সকল মানুষের সাথে, যারা
সকল রকমের অপরাধকে জন্ম দেয়া এবং নিখুঁত
নিরপেক্ষতায় একটিকে খাড়া করানো এই ব্যবস্থাকে বাতিল করার সংগ্রামে লিপ্ত- একটি
ব্যবস্থা যেটি প্রত্যেকটি সদস্য, নারী,পুরুষ, শিশু সকলকে তাদের শ্রমের পূর্ন ফল
দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং সমান অধিকার প্রদান করবে প্রকৃতির উপহারগুলো উপভোগ
করার, এবং সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করার।
নারী হবে নিজ-প্রতিপোষক এবং স্বাধীন। তার স্বাস্থ্য আর কখনো নিরলস খাটুনি
আর দাসত্বের কারণে ভেঙে পড়বে না, সে আর পুরুষের শিকার হবে না। যেখানে পুরুষরা অস্বাস্থ্যকর
আর অপ্রাকৃত কামেচ্ছা আর বদ অভ্যাসের অধিকারী হবে না।
একজন অরাজপন্থীর স্বপ্ন
প্রত্যেকেই
নিজেদের মধ্যকার নৈতিক আস্থার আর শারীরিক সামর্থ্যের দ্বারা বৈবাহিক অবস্থায়
প্রবেশ করবে। সকলেই একে অপরকে ভালোবাসবে
আর শ্রদ্ধা করবে, এবং শুধু নিজের স্বার্থেই নয়, বরং নিজেদের সুখী থাকার স্বার্থে
একে অপরকে সাহায্য করবে, এমনকি তারা
মানবজাতির সার্বিক সুখের কামনা করবে। এই
মিলনের সন্তানাদি হবে মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যবান এবং
পিতামাতাকে তারা কেবল নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে নয় বরং পিতামাতা সম্মানের প্রাপ্য
বলে তাদের সম্মান করবে।
তারা
নির্দেশিত হবে সম্পূর্ন সম্প্রদায়ের দেখাশোনার জন্য এবং নিজেদের প্রবৃত্তিকে
অনুসরণ করার ব্যাপারে তারা মুক্ত থাকবে। এবং তাদের চাটুকারিতা আর নিজের সহযোদ্ধাকে
লুণ্ঠনের নিম্ন ছল শেখানোর কোনো প্রয়োজন
থাকবে না। জীবনের লক্ষ্য হবে , ভ্রাতাদের অতিক্রম করে ক্ষমতা দখল না করা, বরং
সম্প্রদায়ের সকল মানুষের সম্মান ও শ্রদ্ধা জয় করা।
অরাজপন্থী বিবাহবিচ্ছেদ
নারীপুরুষের
মিলন নিজেদের কাছে অসন্তোষজনক এবং বিস্বাদ প্রমাণিত হলে তাদের উচিত শান্ত,
বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারে আলাদা হওয়া এবং একটি অনুপযোগী মিলন অব্যাহত রেখে বিবাহের
বিভিন্ন সম্পর্ককে হীনমূল্য করা উচিত নয়।
যদি
নিপীড়িতকে নিপীড়নের বদলে সংস্কারকরা তাদের প্রচেষ্টাগুলোকে এই কারণটিকে সমূলে
উৎপাটনের জন্য একত্রিত করত তবে দেহবৃত্তি মানবসমাজের জন্য আর অবমাননাকর হতো না।
একটি
শ্রেণিকে দমিত করে অন্য একটি শ্রেণিকে রক্ষা করা মূর্খতার চেয়েও অধম। এটি অপরাধ।
আপনাদের মুখগুলো অন্যদিকে ফেরাবেন না, নীতিবাদী নারী এবং পুরুষেরা।
.
আপনাদের
কুসংস্কারগুলোকে আপনাদের প্রভাবিত করার অনুমতি দেবেন নাঃ এই প্রশ্নগুলোকে নিরপেক্ষ
অবস্থান থেকে বিবেচনা করে দেখুন।
নিজেদের
শক্তি সামর্থ্যকে অনর্থক জাহির করার চেয়ে বরং হাত বাড়িয়ে দিন, এবং দুর্নীতিগ্রস্ত
, জীর্ণ ব্যবস্থাকে বাতিল করতে সাহায্য
করুন।
যদি
বৈবাহিক জীবন আপনার সম্ভ্রম আর আত্মমর্যাদা চুরি না করে থাকে, যদি যাদের আপনি
নিজের সন্তান বলেন তাদের ভালোবাসেন, তবে আপনার অবশ্যই, নিজের স্বার্থ, নিজের
সন্তানদের স্বার্থে, শৃঙ্খলমোচন কামনা করুন এবং স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করুন। তখন, তার আগ পর্যন্ত , বিবাহের এই অনিষ্ট
ক্ষান্তি দেবে না।
টীকাঃ
১. ডক্টর চার্লস হেনরি পার্কহার্স্ট। একজন আমেরিকান সমাজ সংস্কারক। উনবিংশ শতকে নারীর ভোটাধিকারের বিপক্ষে যেসকল সংস্কারক কথা
বলেছিলেন তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি বলেন,
‘That quality of feminine blatancy which is being at
present so extensively advertised here and in England, that disposition toward
self-exploitation indulged in by short-haired women and encouraged by
long-haired men, is of a sort to chill and then freeze over those masculine
impulses that seek restful and satisfying companionship in a member of the
opposite sex’
মূল লিখাঃ shorturl.at/hAFX9



Comments
Post a Comment